সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিগত কয়েকদিন ধরে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন একপ্রকার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষে প্রচণ্ড তাপ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে টিকতে না পেরে গোয়াইনঘাটের জাফলং মুসলিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে, গাছের ছায়ায়।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা বড় বড় কয়েকটি গাছের নিচে গোড়ায় বসে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে গাছের ছায়ায়। সেখানেই অস্থায়ীভাবে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। তীব্র দাবদাহে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ক্লাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই বিকল্প এই উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, টিনের চালার কারণে দুপুরের দিকে শ্রেণিকক্ষের ভেতরটা গরম হয়ে ওঠে। এর ওপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ফ্যানও ঘোরে না। গরমে ঘেমে অনেকেরই দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ক্লাসে বসে মনোযোগ দেওয়া তো দূরের কথা, গরমে অনেকেই অসুস্থ বোধ করে। তাই শিক্ষকরা তাদের বাইরে গাছের ছায়ায় ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। গাছের নিচে খোলা বাতাস থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, চারপাশের তীব্র গরমের আঁচ ঠিকই গায়ে লাগছে।

মুসলিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একদিকে তীব্র তাপদাহ আর অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা ক্লাসে বসার মতো পরিস্থিতি পাচ্ছে না। দিনের পর দিন এভাবে খোলা জায়গায় বা গাছের নিচে ক্লাস চললে ধুলাবালি এবং প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীরা যে কোনো সময় বড় ধরনের অসুস্থতায় পড়তে পারে। পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং স্কুল ভবনের সংস্কার জরুরি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী হোসেন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, তীব্র গরম আর অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শ্রেণিকক্ষে দমবন্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। টিনের চালার কারণে রুমগুলো যেন একেকটি চুল্লিতে পরিণত হয়। এমন পরিস্থিতিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এবং তাদের একটু স্বস্তি দিতে আমরা বাধ্য হয়ে খোলা মাঠে গাছের ছায়ায় ক্লাস নিচ্ছি। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।