বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ!

প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২২
নিউজটি শেয়ার করুন

ইন্টারনেট ব্যবহারে খরচ বাড়তে পারে। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ব্রডব্র্যান্ড, ওয়াইফাই, ডিএসএল ও কেবলের মাধ্যমে যেসব ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে, সেখানে ট্যারিফ বা কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গ্রাহক পর্যায়ে যুক্ত হতে পারে ভ্যাট। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি মোবাইল ফোনের টক টাইম ও এসএমএস থেকে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ কমেছে। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মানুষ মোবাইলে কথা বলা বা এসএমএস পাঠানোর বদলে অ্যাপ ব্যবহার করে কথা বলছেন বেশি। এতে টক টাইম ও এসএমএস থেকে ভ্যাট বাবদ রাজস্ব কমে গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই অর্থবছরের ১০ মাসে টেলিকম খাত থেকে ভ্যাট কমেছে ২০০ কোটি টাকা। এজন্য এনবিআর চাচ্ছে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে কথা বললেও যাতে সরকার সেখান থেকে কিছু রাজস্ব পায়। বর্তমানে এই খাত থেকে ভ্যাট আসে না।

 

সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশের বড় বড় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) কোম্পানি অডিট করেছে এনবিআর। এসব কোম্পানির গত পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলোর ব্যবসা প্রতি বছরই বড় হয়েছে। এখন কোম্পানিগুলো টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এসব কোম্পানি থেকে বেশি রাজস্ব সংগ্রহের কথা ভাবা হচ্ছে। এজন্য ইন্টারনেটের দর বাড়ানো হবে। তবে তা গ্রাহক পর্যায়ে বাড়বে কিনা তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ২ হাজার ৩৪৬টি আইএসপির লাইসেন্স নিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আর ১১টি পিএসটিএন লাইসেন্স নিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। গত এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে আইএসপি ও পিএসটিএনের গ্রাহক ছিল ১ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার। এসব কোম্পানি বর্তমানে তাদের মাধ্যমে সরবরাহ করা ইন্টারনেটের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে থাকে। আর কোম্পানিগুলোর করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ।

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মূল উৎস সাবমেরিন কেবল কোম্পানি। এ কোম্পানি থেকে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট কেনে। আর আইআইজি থেকে ইন্টারনেট কেনে আইএসপি ও পিএসটিএন কোম্পানিসহ অন্যান্য কোম্পানি। এর বাইরে কয়েকটি ইন্টারন্যাশনাল টেরেসট্রিয়াল কেবল কোম্পানি রয়েছে, যারা বিদেশ থেকে ইন্টারনেট আমদানি করে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সরবরাহ করে। আইআইজি কোম্পানি কত দামে ইন্টারনেট বিক্রি করবে তার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করে দেয় বিটিআরসি। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১০টি ধাপে দাম নির্ধারণ হয়ে থাকে। তবে অধিকাংশ সময় সর্বনিম্ন ধাপের দামেই কেনাবেচা হয়ে থাকে। একই সঙ্গে গ্রাহক পর্যায়েও ইন্টারনেট প্যাকেজের সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে দেয় বিটিআরসি। ৫, ১০ ও ২০ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) এই তিনটি প্যাকেজের সর্বোচ্চ দর যথাক্রমে ৫০০, ৮০০ ও ১ হাজার টাকা ঠিক করে দিয়েছে। এর বাইরে কোম্পানিগুলো নিজস্ব প্যাকেজ তৈরি করে বিটিআরসি থেকে অনুমোদন নিয়ে নিতে পারে।

জানা গেছে, গ্রাহক পর্যায়ে কত এমবিপিএস ইন্টারনেট সরবরাহ করে কত টাকা বিল নেওয়া হচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা যাচাই করা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ গ্রাহক মনে করেন, আইএসপি তাদের প্রকৃত প্যাকেজ সরবরাহ করে না। বিটিআরসির অবশ্য এ বিষয়ে তেমন কোনো তদারকিও নেই। ফলে আইএসপি ও পিএসটিএন কোম্পানিগুলো বাড়তি মুনাফা করলেও তা আর্থিক প্রতিবেদন এবং মাসিক রিটার্নে উল্লেখ থাকে না। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একটি কোম্পানি যে পরিমাণ ইন্টারনেট কিনবে তার ওপর ভিত্তি করে ওই কোম্পানি থেকে বাড়তি চার্জ বা ট্যারিফ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। তবে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। গ্রামকে শহরে রূপান্তর করার উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। এজন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে সাধারণ মানুষের খরচ যাতে খুব বেশি না বাড়ে, সে বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ইন্টারনেটে ভয়েস কলের ব্যবহার সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ শতাংশ। এর বাইরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ প্রধানত তথ্য আদান-প্রদান, অফিসিয়াল কার্যক্রম ইত্যাদি করে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ রক্ষায়ও ইন্টারনেট ভূমিকা রাখছে। ফলে ডিজিটাল কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো পদক্ষেপ বাজেটে নেওয়া ঠিক হবে না।

 

সূত্র : সমকাল