
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বলেশ্বর গ্রামে বসতভিটা জবরদখলের চেষ্টা, একটি পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বলেশ্বর গ্রামের মৃত মো. বশির উদ্দিনের ছেলে ভুক্তভোগী আব্দুস শুকুর।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গ্রামের প্রভাবশালী ইকবাল হোসেন, মাহমুদ আলী, লোকমান উদ্দিন, মুসাই মিয়া, ফরিদ উদ্দিন ও হারুন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতবাড়ি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর লোকমান উদ্দিন গং একটি জাল দলিল তৈরি করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। বর্তমানে সহকারী জজ আদালত ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আব্দুস শুকুর জানান, আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পুরো পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রেখেছে। গ্রামের কেউ তাদের সাথে কথা বললে বড় অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় এবং গবাদিপশু ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া গত ৫ অক্টোবর প্রতিপক্ষরা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গাছপালা কেটে ফেলে ও দুটি ঘর ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিবাদীরা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে আপোশনামা জমা দেয়। কিন্তু সেনাক্যাম্প চলে যাওয়ার পর তারা আবারও উগ্র আচরণ শুরু করে, যার ফলে স্থানীয় ছাব্বিশ মৌজার মুরুব্বিদের সালিশি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৭ অক্টোবর একটি ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতিপক্ষদের সাথে নিয়ে লাইভে এসে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বিএস ৬২৩ দাগে ভুক্তভোগী পরিবার পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন এবং হিসেব অনুযায়ী তারা প্রাপ্য জমির চেয়েও কম জমিতে আছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উস্কানিমূলক লাইভ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।












