
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটে-বাজারে এখন একটাই আলোচনা—কে হচ্ছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের আগামী কান্ডারি? সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী মাঠ চষে বেড়ালেও সাধারণ ভোটারদের জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান। নিজের মানবিক কর্মকাণ্ড এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে ভোটের মাঠে তিনি এখন এক অনন্য ও অপরাজেয় সমীকরণ তৈরি করেছেন।
সফল ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন। করোনাকালীন সংকটময় মুহূর্ত থেকে শুরু করে ভয়াবহ বন্যা ও যেকোনো দুর্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ত্রাণ ও সাহায্য নিয়ে ছুটে গেছেন তিনি। বিপদের দিনে এভাবে পাশে থাকায় ইউনিয়নবাসীর কাছে তিনি এখন ‘বিপদের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

পূর্ব জাফলংয়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন আব্দুল মান্নান। বিভিন্ন ওয়ার্ডে যেখানে দলীয় বা আঞ্চলিক একাধিক প্রার্থীর ছড়াছড়ি ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলছে, সেখানে জাফলংয়ের উত্তরাংশে আব্দুল মান্নান এখন পর্যন্ত একক ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। নিজস্ব ও আশপাশের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডের বিশাল ভোটব্যাংক তার মূল শক্তি হলেও সমগ্র ইউনিয়ন জুড়েই একজন যোগ্য, নির্দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দিন-রাত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ তার ক্লিন ইমেজের কারণে তার প্রতি ধাবিত হচ্ছে।
নির্বাচনের আমেজ পুরোপুরি মাঠে আসার আগেই আব্দুল মান্নান ছুটে চলছেন মানুষের ঘরে ঘরে। কাকডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তার ক্লান্তিহীন জনসংযোগ ও মুরুব্বিদের দোয়া নেওয়ার দৃশ্য প্রমাণ করে জনগণের প্রতি তার গভীর দায়বদ্ধতা। বিশেষ করে এলাকার তরুণ সমাজ তার জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নিজের প্রার্থিতা নিয়ে বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, আমি কখনো নিজেকে নেতা ভাবি না, জাফলংয়ের সাধারণ মানুষের একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। করোনা কিংবা বন্যা—যখনই মানুষ বিপদে পড়েছে, আমি আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি। কোনো পদ বা লোভের জন্য নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি এটা করি। জাফলং ইউনিয়নকে একটি মাদকমুক্ত, আদর্শ ও উন্নত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন আমার। যদি সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজ আমাকে সুযোগ দেয়, তবে পূর্ব জাফলংয়ের সার্বিক উন্নয়নে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।

এলাকার প্রবীণ এক ভোটার জানান, ভোটের সময় অনেকেই অনেক কথা বলে, কিন্তু বিপদের সময় আব্দুল মান্নান ছাড়া কাউকে পাওয়া যায় না। করোনাকালে যখন কেউ ঘর থেকে বের হয়নি, তখন এই মান্নান মেম্বার মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছে। আমরা এমন মানুষকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।
অন্যদিকে তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, আমরা এবার কোনো মার্কা বা দল দেখব না। আমরা দেখব পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব। আব্দুল মান্নান ভাই তরুণদের অহংকার।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতির দাবার চাল বড়ই জটিল হলেও বর্তমান মাঠের বাস্তবতা বলছে, আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের লড়াইয়ে যারাই মাঠে থাকবেন, তাদের প্রত্যেককেই ‘আব্দুল মান্নান’ ফ্যাক্টর মাথায় রেখেই এগোতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও তরুণদের একচ্ছত্র সমর্থনকে পুঁজি করে ভোটের মাঠে এখন অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে এগিয়ে চলেছেন এই প্যানেল চেয়ারম্যান।














