
সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়-তবু কিছু প্রতিষ্ঠান থাকে, যেগুলো মানুষের জীবনের শেকড়ে গেঁথে যায়। তেমনই এক আলোকবর্তিকা গোয়াইনঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে উদযাপিত হলো রজতজয়ন্তী ও পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান।
“শেকড়ের টানে, চলো মিলি প্রাণের উৎসবে” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী আয়োজন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। সকাল থেকেই প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে বিদ্যালয় চত্বর।
রজতজয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে এসে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি আলোকিত মানুষ গড়ার কারখানা। এখান থেকে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা সমাজ ও রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে—এটাই এই বিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
রজতজয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুল আহাদ সুবেলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট এমসি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল আনাম মো. রিয়াজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর অহিদুর রব, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. শামীম আহমদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান পুলক রঞ্জন চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এম এ রহিম, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দিলওয়ার হোসেন বাবর, সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর ইকবাল, পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুস শহীদ, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন কামাল, সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, উদযাপন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নানা আয়োজন রজতজয়ন্তীকে করে তোলে আরও বর্ণিল।
সব মিলিয়ে বিদ্যালয়ের রজতজয়ন্তী ও পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় স্মৃতি, আবেগ ও ভবিষ্যতের প্রত্যয়ের এক অনন্য উৎসবে যা দীর্ঘদিন হৃদয়ে ধারণ করে রাখবেন এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবাই।












