
সিলেটের গোয়াইনঘাটে ‘প্রটোকলস অ্যান্ড ট্রিগার-বেইজড ইনস্টিটিউশনাল সিস্টেমস ফর টাইমলি হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ (প্রতিষ্ঠা) প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের এক ওরিয়েন্টেশন বা অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসনিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কেয়ার বাংলাদেশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) বাস্তবায়নে আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী।
কর্মশালার শুরুতে প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব আসার আগেই বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস ও সুনির্দিষ্ট ট্রিগার ব্যবহার করে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন। সঠিক সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারি।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন, গোয়াইনঘাট ভৌগোলিক কারণেই একটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। এখানে আগাম সাড়াদান ও মানবিক সহায়তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের প্রটোকলগুলো যদি স্থানীয় প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাজের সাথে সঠিকভাবে সমন্বয় করা যায়, তবে দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি এই মানবিক ও দূরদর্শী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাধন কান্তি সরকার সরকারি দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার সাথে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। প্রকল্পের কারিগরি দিক, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন প্রজেক্ট অফিসার মোঃ জাহিদুল হক এবং মনিটরিং ও ডকুমেন্টেশন অফিসার মোশাররফ হোসাইন। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের রূপরেখা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর প্রীতি রানী সরকার ও ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো: মাসুদ রানা।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী অংশীজনরা প্রকল্পটির টেকসই বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। কর্মশালায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় সাংবাদিক, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিসহ নানা পর্যায়ের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট প্রটোকল ও ট্রিগার-ভিত্তিক ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর দুর্যোগ সাড়াদান মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।













